লোকমান ফারুক, রংপুর
নির্বাচনী প্রচারণার ভিড়ে দেশের রাজনীতি এখন মুখর। মাইক, পোস্টার আর উঠান বৈঠকের শব্দে সরগরম মাঠ। কিন্তু এই কোলাহলের আড়ালে ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে এক অস্বস্তিকর বাস্তবতা-নারী কর্মী ও সমর্থকদের হেনস্থার অভিযোগ।
গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া নারীদের হিজাব টেনে খুলে দেওয়া, অশালীন মন্তব্য এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এসব ঘটনায় ভোটের উৎসবের বদলে প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে।
বুধবার সকালে রংপুরের পীরগাছা উপজেলার তৈয়ব গ্রামে শাপলা কলি মার্কার এক উঠান বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ আসনের প্রার্থী আখতার হোসেন এসব ঘটনার নিন্দা জানান।
তিনি বলেন, "যারা নারীদের হেনস্থা করছে, তারা আসলে আওয়ামী লীগের অতীতের জঘন্য ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করছে।"
আখতার হোসেনের ভাষায়, নির্বাচনী রাজনীতিতে নারীদের ওপর আক্রমণ নতুন নয়। তিনি ২০১৮ সালের নোয়াখালীর সুবর্ণচরের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, "নৌকায় ভোট না দেওয়ার কারণে একজন নারীকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছিল'-এই বিভীষিকাময় ইতিহাস আমরা ভুলে যাইনি। সেই রাজনীতিই আজ অন্য রূপে ফিরে আসছে।'
তার বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল এক ধরনের সতর্ক সংকেত- ভোটের মাঠে সহিংসতা কেবল ব্যক্তি নয়, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেই আঘাত করে। তিনি বলেন, "ভোটের কাজ করতে গিয়ে যারা নারীদের হেনস্থা করছে, তারা দেশকে আবার ভয়ভীতির রাজনীতির দিকেই ঠেলে দিচ্ছে।
এনসিপির এই নেতা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার দাবি, "যেখানেই এমন ঘটনা ঘটবে, যে দলেরই হোক, যত প্রভাবশালীই হোক না কেন—তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কার কথাও তুলে ধরেন তিনি। আখতার হোসেন বলেন, "নির্বাচনের শুরু থেকেই তারা নির্বাচন কমিশনকে উদ্বেগের কথা জানিয়ে আসছেন।
নারীদের হেনস্থা শুধু পোশাকের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়, এটি ভোট চাওয়া ও ভোট দেওয়ার মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত, বলেন তিনি।
ঢাকা-৮ আসনের পরিস্থিতিও তুলে ধরেন এনসিপির এই নেতা। তার অভিযোগ, 'ওই আসনে এনসিপি নেতা নাছির উদ্দীন পাটোয়ারীর ওপর ধারাবাহিক হামলা হচ্ছে। 'আমরা দেখেছি, একটি নির্দিষ্ট দলের কর্মীরা এসব হামলায় জড়িত। ছাত্রদলের কর্মীদের সম্পৃক্ততার তথ্য আমাদের কাছে এসেছে, বললেন আখতার হোসেন
তিনি আরও বলেন, "নির্বাচনের সময় 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' নিয়ে আমরা যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেটাকেই বাস্তবে পরিণত করছে।
আখতার হোসেনের বক্তব্যের সময় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
নির্বাচনী মাঠে এসব অভিযোগ কতটা তদন্ত ও জবাবদিহির মুখোমুখি হবে-তা এখনো অনিশ্চিত। তবে নারীদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণের প্রশ্নটি যে আবারও জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে, তা স্পষ্ট।
ভোটের মৌসুমে এই প্রশ্নের উত্তরই হয়তো নির্ধারণ করবে-এ নির্বাচন কেবল সংখ্যা গোনার প্রক্রিয়া থাকবে, নাকি নাগরিক অধিকার রক্ষার একটি পরীক্ষা হয়ে উঠবে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক -শেখ তিতুমীর আকাশ।
বার্তা প্রধান : মোঃ সেলিম উদ্দিন
ইমেইল: dailyswadhinbhasha@gmail.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.swadhinbhasha.com কর্তৃক সংরক্ষিত।