স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার
দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদেশি কর্মীদের জন্য ভাষা শেখা এক বড় চ্যালেঞ্জ হলেও, সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে যে আঞ্চলিক উপভাষা বা ‘সাতুরি’ বিদেশিদের জন্য আরও বড় এক গোলকধাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি ১০ জন অদক্ষ বিদেশী কর্মীর মধ্যে ৬ জনের জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায় স্থানীয় উপভাষা।
আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) এমন একটি জরিপের তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দ্য কোরিয়া টাইমস।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ জনের মধ্যে ৬ বিদেশি কর্মীদের জন্য কোরিয়ান ভাষা আয়ত্ত করা কেবল অর্ধেক লড়াইয়ের সমান। বাকি অর্ধেক হলো স্থানীয় উপভাষা এবং সম্মানসূচক সম্বোধন বুঝে ওঠা।
সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ বিদেশি কর্মী কোরিয়ার আঞ্চলিক ভাষার ভিন্নতার কারণে কর্মক্ষেত্রে যোগাযোগের ক্ষেত্রে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।
গত সপ্তাহে হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট সার্ভিস অফ কোরিয়া (এইচআরডিকে) কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১ হাজার ৬৭ জন ই-৯ ভিসা ধারীর ওপর জরিপ চালানো হয়।
সেখানে দেখা যায় ৬৩.৯ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন তারা আঞ্চলিক উপভাষা বুঝতে হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া ৬০.৪ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন কোরিয়ান ভাষার জটিল ‘অনারিফিক’ বা সম্মানসূচক ব্যাকরণ তাদের জন্য বড় বাধা।ভৌগোলিক ও ভাষাগত চ্যালেঞ্জও বিদেশিদের ওপর প্রভাব পড়ে।
কোরিয়ার ভৌগোলিক গঠনের কারণে এখানে প্রধানত পাঁচটি আঞ্চলিক উপভাষা প্রচলিত (সিউল, গাংওয়ান, চুংচেওং, জিয়ংসাং ও জিওল্লা)। এছাড়া জেজু দ্বীপের ভাষা এতটাই আলাদা যে অনেক ভাষাবিদ এটিকে ভিন্ন ভাষা হিসেবে গণ্য করেন।
এর সাথে যুক্ত হয় বয়স ও সামাজিক পদমর্যাদা অনুযায়ী সম্মান প্রদর্শনের জটিল ব্যাকরণগত নিয়ম।
প্রতিবেদনটিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, কোরিয়ান ভাষা শিক্ষা কেবল কোনো কল্যাণমূলক সহায়তা নয়, বরং শিল্প দুর্ঘটনা প্রতিরোধের একটি প্রধান হাতিয়ার।
যেহেতু ৮৮ শতাংশ কর্মক্ষেত্রে মূল যোগাযোগের মাধ্যম কোরিয়ান ভাষা, তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভাষাগত দক্ষতা এখন অপরিহার্য
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানের ইপিএস টপিক পরীক্ষা মূলত পড়া এবং শোনার ওপর গুরুত্ব দেয়, যার ফলে কথা বলার অনুশীলনে ঘাটতি থেকে যায়।
তাই ভবিষ্যতে এই পরীক্ষায় 'স্পিকিং অ্যাসেসমেন্ট' বা কথা বলার দক্ষতা যাচাইয়ের ব্যবস্থা রাখা প্রয়োজন।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক -শেখ তিতুমীর আকাশ।
বার্তা প্রধান : মোঃ সেলিম উদ্দিন
ইমেইল: dailyswadhinbhasha@gmail.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.swadhinbhasha.com কর্তৃক সংরক্ষিত।