স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার
বাংলাদেশে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই চার্টারের ওপর অনুষ্ঠিতব্য গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য কমনওয়েলথ ১৪ সদস্য বিশিষ্ট একটি পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) লন্ডনে এক ঘোষণায় কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বোচওয়ে এ পর্যবেক্ষক দলের নাম প্রকাশ করেন। এই পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ ই নানা আকুফো-আদো।
পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর ঘোষণায় কমনওয়েলথ মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য আমাদের দল মোতায়েনের মাধ্যমে আমরা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মৌলিক গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করছি।
বাংলাদেশে আমাদের উপস্থিতি কেবল পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব থেকেই পরিচালিত নয়, বরং এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতির অংশ।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতিতে নতুন বছরের শুরুতে নিজেদের সময় দেবার জন্য এই বিশিষ্ট কমনওয়েলথ নাগরিকদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
’প্রতিনিধি দলের প্রধান আকুফো-আদোর সঙ্গে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, জেন্ডার ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা যোগ দেবেন।
পর্যবেক্ষক দলকে সহায়তা করবে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট -এর একটি দল, যার নেতৃত্বে থাকবেন ইলেক্টোরাল সাপোর্ট সেকশনের প্রধান ও উপদেষ্টা লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজ।
কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের ম্যান্ডেট হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা এবং নির্বাচন ও গণভোট বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না—সে বিষয়ে একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রদান করা।
দলটি বাংলাদেশের জাতীয় আইনসহ যেসব মানদণ্ডে বাংলাদেশ নিজেকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছে, তার আলোকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরিচালনা সম্পর্কে প্রতিবেদন দেবে।
মিশন সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যবেক্ষক দল তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসম্বলিত একটি প্রতিবেদন কমনওয়েলথ মহাসচিবের কাছে জমা দেবে। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলসমূহ, সকল কমনওয়েলথ সরকার এবং সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে।
পর্যবেক্ষক দলে আরও যারা থাকছেন— ক্যারিবিয়ান উইমেন ইন লিডারশিপের প্রেসিডেন্ট মিসেস লেব্রেখ্টা নানা ওয়ে হেসে-বেইন, কানাডার যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ নীল ফিলিপ ফোর্ড, ফিজির প্যাসিফিক ইয়ুথ কাউন্সিলের সমন্বয়ক মিলিয়ানা ইগা রামাতানিভাই, মালয়েশিয়ার সাবেক সিনেটর দাতুক (ড.) রাস আদিবা মোহাম্মদ রাদজি, মালদ্বীপের সাবেক পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী জেফ্রি সেলিম ওয়াহিদ, মরিশাসের ইলেক্টোরাল কমিশনার ইরফান আব্দুর রহমান, সিয়েরা লিওনের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী অধ্যাপক ডেভিড জন ফ্রান্সিস, দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক মান্ডলা মুচুনু, শ্রীলঙ্কার কলম্বো বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসাধারণ ও আন্তর্জাতিক আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. দীনেশ সমররত্ন, উগান্ডার আইন বিশেষজ্ঞ ড. উইনিফ্রেড মেরি তারিনেবা কিরিয়াবওয়ার, যুক্তরাজ্যের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষজ্ঞ রোজমেরি অজয়ি এবং জাম্বিয়ার প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা ক্রিটিকাস প্যাট্রিক এনশিন্ডানো।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক -শেখ তিতুমীর আকাশ।
বার্তা প্রধান : মোঃ সেলিম উদ্দিন
ইমেইল: dailyswadhinbhasha@gmail.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.swadhinbhasha.com কর্তৃক সংরক্ষিত।