স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার
ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থার (ইসরো) পিএসএলভি-সি৬২ রকেট উৎক্ষেপণের পর মাঝ আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটির কবলে পড়েছে। রকেটটি তার নির্ধারিত গতিপথ থেকে বিচ্যুত হওয়ায় এতে থাকা ১৬টি স্যাটেলাইট মহাকাশে হারিয়ে যাওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খবর এনডিটিভির।
ইসরোর পিএসএলভি-সি৬২ রকেট উৎক্ষেপণের সময়ের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ সফলভাবে অতিক্রম করে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান স্পেস সেন্টার থেকে রকেটটি উৎক্ষেপণ করা হয়।
ইসরোর তথ্যমতে, উড্ডয়নের প্রথম কয়েক মিনিট এবং রকেটের প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের কার্যক্রম স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু তৃতীয় ধাপে এসেই গোলযোগ দেখা দেয়।
ইসরো চেয়ারম্যান ড. ভি নারায়ণন জানান, রকেটের তৃতীয় ধাপে বিচ্যুতি লক্ষ্য করা গেছে এবং মিশনটি প্রত্যাশিত পথে এগোতে পারেনি। তবে মহাকাশ বিজ্ঞানীদের মতে, পিএসএলভি-র তৃতীয় ধাপের এমন ত্রুটি সাধারণত মিশনের সম্পূর্ণ ব্যর্থতাই নির্দেশ করে।
এই মিশনটি ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ রকেটটি মোট ১৬টি স্যাটেলাইট বহন করছিল। এর মধ্যে রয়েছে:
ভারতের নিজস্ব আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট ইওএস-এন১।
ডিআরডিও নির্মিত অত্যাধুনিক নজরদারি স্যাটেলাইট 'অন্বেষা'।
হায়দ্রাবাদভিত্তিক স্টার্টআপ 'ধ্রুব স্পেস'-এর ৭টি স্যাটেলাইট।
ব্রাজিল, নেপাল ও যুক্তরাজ্যের কয়েকটি স্যাটেলাইট।
মিশন ব্যর্থ হলে এই মূল্যবান উপগ্রহগুলো ধ্বংস বা হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা ইসরো এবং সংশ্লিষ্ট স্টার্টআপগুলোর জন্য বিশাল ক্ষতির কারণ হবে।এটি ইসরোর জন্য একটি বড় হোঁচট।
কারণ, ২০২৫ সালেও পিএসএলভি-র একটি উৎক্ষেপণ ব্যর্থ হয়েছিল এবং সেটিও ছিল রকেটের তৃতীয় ধাপের ত্রুটির কারণেই। সেই ব্যর্থতার তদন্ত রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ না করেই ২০২৬ সালের এই 'কামব্যাক' মিশনটি পরিচালনা করা হয়। কিন্তু ফের একই ধরনের বিপত্তি ভারতের অন্যতম নির্ভরযোগ্য এই রকেট সিস্টেম এবং দেশটির বাণিজ্যিক মহাকাশ উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক -শেখ তিতুমীর আকাশ।
বার্তা প্রধান : মোঃ সেলিম উদ্দিন
ইমেইল: dailyswadhinbhasha@gmail.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.swadhinbhasha.com কর্তৃক সংরক্ষিত।