লোকমান ফারুক, রংপুর
তিস্তা নদী, উত্তরের জীবনরেখা। বছরের পর বছর ধরে যে নদী কৃষককে পানি দিয়েছে, জনপদকে বাঁচিয়েছে, আজ সেই নদীর বুক চিরে চলছে নীরব লুট।
দিনের আলোয়, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে। আর রাত নামলেই শুরু হয় পাথর তোলার উৎসব। যেন নদী নয়, অরক্ষিত খনিজ ভাণ্ডার। শনিবার বিকেলে সেই নীরব লুটের দৃশ্য হঠাৎই থমকে যায়।
ডিমলা উপজেলার ডালিয়া এলাকায় তিস্তাপাড় ধরে ধীরগতিতে এগোচ্ছিল পাথরবোঝাই দুটি ট্রাক্টর। চাকার নিচে কচকচে শব্দ। নদীর বুক থেকে তুলে আনা পাথরের। ঠিক তখনই সেখানে উপস্থিত হয় উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। মুহূর্তের মধ্যেই জব্দ করা হয় ট্রাক্টর দুটি।
অভিযান পরিচালনা করেন ডিমলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রওশন কবির এবং নীলফামারী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট শেখ ইমাম মোশারফ। অভিযানে সার্বিক সহায়তা দেয় ডিমলা থানা পুলিশের একটি চৌকস দল ও স্থানীয় গ্রাম পুলিশ।
প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা বলেন, "নদী থেকে পাথর তোলা মানে শুধু আইন ভাঙা নয়-এটা ভবিষ্যৎকে কেটে নেওয়া।" তিস্তা অঞ্চলে অবৈধ পাথর উত্তোলন নতুন কিছু নয়। কিন্তু অভিযানের ধারাবাহিকতা না থাকায় বারবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে অসাধু চক্র। নদীর গতিপথ বদলাচ্ছে, ভাঙন বাড়ছে, হারাচ্ছে স্বাভাবিক গভীরতা। প্রশ্ন উঠছে-নদী কি শুধুই প্রাকৃতিক সম্পদ, নাকি দেখভালের দায়িত্ব কারও নেই?
ডিমলা উপজেলা প্রশাসন বলছে, এবার অবস্থান বদলেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নদীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান আরও কঠোরভাবে পরিচালিত হবে।
অবৈধ পাথর উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে তিস্তা রক্ষায় প্রশাসন অনড় থাকবে।
সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে ডালিয়া তিস্তাপাড়ে নেমে আসে নীরবতা। কিন্তু নদীর প্রশ্ন রয়ে যায়-এই অভিযান কি এক দিনের, নাকি তিস্তার অস্তিত্ব রক্ষার দীর্ঘ লড়াইয়ের শুরু?
উত্তর খুঁজছে তিস্তার স্রোতই।
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক -শেখ তিতুমীর আকাশ।
বার্তা প্রধান : মোঃ সেলিম উদ্দিন
ইমেইল: dailyswadhinbhasha@gmail.com
এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি। সকল স্বত্ব www.swadhinbhasha.com কর্তৃক সংরক্ষিত।