স্বপ্না শিমু স্টাফ রিপোর্টার
অত্যন্ত উৎসাহ উদ্দীপনা ও সম্প্রীতির আবহে ২০২৬ সালকে বরণ করে নিয়েছে মালয়েশিয়া। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে কুয়ালালামপুরের প্রাণকেন্দ্র বুকিত বিন্তাংয়ের প্যাভিলিয়ন এর সামনে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়।
ঘড়ির কাঁটায় রাত ১২টা বাজার সাথে সাথেই বর্ণিল আতশবাজির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে কুয়ালালামপুরের আকাশ। ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে আয়োজিত এই কাউন্টডাউন উৎসবে যোগ দেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, এই অনুষ্ঠানটি কেবল পর্যটন অভিযানের প্রারম্ভিক ধাপই নয়, এটি মালয়েশিয়ার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং বিশ্বজুড়ে আগত অতিথিদের স্বাগত জানানোর ক্ষেত্রে মালয়েশীয়দের ঐক্যবদ্ধ মানসিকতার এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। উৎসবের মূল আকর্ষণ ছিল মালয়েশিয়ার পাঁচটি প্রধান সংস্কৃতি মালয়, চীনা, ভারতীয়, বিদায়ু এবং কাদাজানের ঐতিহ্যবাহী প্রদর্শনী।
১০ মিনিটের বিশেষ এই সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় লোকজ সুর ও আধুনিক বিটের এক অপূর্ব সমন্বয় দেখা যায়।
অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত দেশি-বিদেশি হাজারো পর্যটকের ভিড়ে পুরো বুকিত বিন্তাং এলাকা এক উৎসবমুখর জনসমুদ্রে পরিণত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত পর্যটন, শিল্প ও সংস্কৃতি মন্ত্রী দাতুক সেরি তিয়ং কিং সিং বলেন, ‘এই উদযাপন নতুন বছর বরণের পাশাপাশি বিশ্বকে মালয়েশিয়ায় আমন্ত্রণ জানানোর একটি প্রতীকী সূচনা।
২০২৬ সালে আমাদের লক্ষ্য ৪ কোটি ৩০ লক্ষ আন্তর্জাতিক পর্যটককে স্বাগত জানানো। আমরা আমাদের অনন্য সংস্কৃতি ও আতিথেয়তা নিয়ে বিশ্বকে বরণ করতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’ ঘড়ির কাঁটায় রাত ১২টা বাজার সাথে সাথেই বর্ণিল আতশবাজির আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে কুয়ালালামপুরের আকাশ।
তবে এবারের বিশেষ আকর্ষণ ছিল অত্যাধুনিক ড্রোন শো। ড্রোনের মাধ্যমে আকাশে ফুটিয়ে তোলা হয় ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’-এর মাসকট সান বিয়ার ‘উইরা’ ও ‘মানজা’। সেই সাথে বিশাল অক্ষরে নববর্ষের শুভেচ্ছা বার্তা প্রদর্শনের মাধ্যমে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহরুদ্দিন আবু সোহোতসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।