
মোঃ মিজানুর রহমান, রংপুর: গাইবান্ধায় শ্বাসরোধে যুবককে হত্যার পর গাছে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগে মামলা; র্যাবের যৌথ অভিযানে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা হত্যা মামলার প্রধান আসামি পাবনা থেকে গ্রেফতার।
১। 'বাংলাদেশ আমার অহংকার'- এই মূলমন্ত্রকে বুকে ধারন করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও হত্যার মতো মারাত্মক অপরাধের ক্ষেত্রে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
২। বাদীর দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, ধৃত আসামি মোছাঃ শেফা বেগম বাদীর তালাকপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্ত্রী এবং ভিকটিম শরিফ রহমান শুভ'র সম্পর্কে সৎমা হয়। দীর্ঘদিন পূর্বে বাদী গ্রেফতারকৃত আসামিকে তালাক প্রদান করে। সেই ক্ষোভে গ্রেফতারকৃত আসামি ভিকটিমের ক্ষতি করার অপচেষ্টা করে আসছিল। এরই প্রেক্ষিতে ইং ২৬/০২/২০২৫ তারিখ বিকাল ০৫.৩০ ঘটিকা হতে ইং ২৭/০২/২০২৫ ইং তারিখ সকাল ০৮.০০ ঘটিকার মধ্যে গ্রেফতারকৃত আসামি এবং তার সহযোগী আসামিগণ ভিকটিমকে অজ্ঞাতনামা স্থানে নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মৃত্যুকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জন্য ভিকটিমকে গাছের ডালের সাথে ফাাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে। পরবর্তীতে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তির পরে ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ০৩/৩২৪, তারিখ-০২/০৯/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড, ১৮৬০।
৩। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক হওয়ায় এলাকায় ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় র্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
০৪। আসামিদেরকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১৩, সিপিসি-৩, গাইবান্ধা এবং র্যাব-১২, সিপিসি-২, পাবনা ক্যাম্প এর চৌকস আভিযানিক দল ইং ১৮/১১/২০২৫ তারিখ সন্ধ্যা ০৬.১৫ ঘটিকায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করে পাবনা জেলার সদর থানাধীন দিলালপুর এলাকা হতে চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান আসামি মোছাঃ শেফা বেগম (৪৫) পিতা-মৃত আমির উদ্দিন মুন্সী, সাং-পূর্ব অনন্তপুর, থানা-সাঘাটা, জেলা-গাইবান্ধা’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
৫। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এ ধরনের প্রতিটি সহিংস ঘটনার প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ভাবে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।