দিনাজপুরে বেপরোয়া বাস চালানোর ফলে দূর্ঘটনায় ৩ জন যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় মামলা; র্যাব-১৩ অভিযানে বাস চালক গ্রেফতার।
মোঃ মিজানুর রহমান, রংপুর:
১। বাংলাদেশ আমার অহংকার'- এই মূলমন্ত্রকে বুকে ধারন করে এলিট ফোর্স র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন চাঞ্চল্যকর হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, রাহাজানিসহ মারাত্মক সব সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এছাড়াও হত্যার মতো মারাত্মক অপরাধের ক্ষেত্রে র্যাব অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে থাকে।
২। বাদীর দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা যায় যে, ভিকটিম তামান্না আক্তার (২৫) গত ১৩/০৬/২০২৫ ইং তারিখ রাত ১০.০০ ঘটিকায় ঠাকুরগাঁও জেলার ভুল্লী থানার নাবিল কাউন্টার হতে পঞ্চগড় থেকে ঢাকা গামী বাস নং ঢাকা- মেট্রো-ব-১৪-৭২৭৭ যোগে অন্যান্য যাত্রীসহ ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। উক্ত নাবিল পরিবহনের বাসটির চালক দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে গাড়িটি চালানোর সময় গত ১৪/০৬/২০২৫ ইং তারিখ রাত ০৩.১৫ ঘটিকায় দিনাজপুর টু বগুড়া মহাসড়কের ঘোড়াঘাট থানাধীন নূরজাহানপুর মোড় নামক স্থানে পৌছালে একটি আম বোঝাই মিনি ট্রাক যার রেজিঃ নং- ঢাকা মেট্রো-ন-২০-৮২৩৩ এর পিছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। উক্ত ধাক্কার ফলে নাবিল পরিবহনের বাসটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়ে ভিকটিম তামান্না আক্তার (২৫) সহ বাসে থাকা মোট ৩ জন যাত্রী ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন এবং আরও ২ যাত্রী গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পরবর্তীতে ভিকটিমের পিতা মোঃ হাসেম আলী দিনাজপুর জেলার ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং- ১০/৭৮, তারিখ- ১৪/০৬/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা- ৯৮/১০৫ সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ ।
৩। ঘটনাটি মর্মান্তিক হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় র্যাব ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
৪। ঘটনার পর থেকেই গ্রেফতার এড়াতে আসামি চতুরতার সাথে আত্মগোপনে ছিল। আসামিকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এই প্রেক্ষিতে গত ১৭/১১/২০২৫ খ্রিঃ ০১.৪৫ ঘটিকায় ঘটনার সহিত জড়িত বাসের চালক মোঃ হামিদুল ইসলাম (৪৫), পিতা- মোঃ আজিজুল ইসলাম, সাং- সুতিপকরী, থানা- বোদা, জেলা পঞ্চগড়ের অবস্থান নির্ণয় করতঃ র্যাব-১৩, সিপিসি-১, দিনাজপুর এবং সিপিসি-২, নীলফামারী এর চৌকস আভিযানিক দল যৌথ অভিযান পরিচালনা করে তার নিজ বসতবাড়ি হতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
৫। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়াও এ ধরনের প্রতিটি সহিংস ঘটনার প্রতিরোধে র্যাবের প্রতিটি সদস্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ভাবে কাজ করছে এবং চলমান এই অভিযান অব্যহত থাকবে।