রংপুরের নতুন ডিসি এনামুল আহসান: দায়িত্বের দোরগোড়ায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

লোকমান ফারুক: রংপুর।
রংপুরের গভীর রাত। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ওপর দিয়ে শীতের কুয়াশা নেমে আসছিল নিঃশব্দে। ঠিক সেই সময়—মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি হওয়া এক প্রজ্ঞাপন বদলে দিলো রংপুর প্রশাসনের পরবর্তী অধ্যায়। যেন নীরব অন্ধকার ভেদ করে ভেসে এলো এক নতুন নাম—মোহাম্মদ এনামুল আহসান।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আমিনুল ইসলামের স্বাক্ষরিত সেই প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়: রংপুরের নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে পদায়ন করা হলো এনামুল আহসানকে। এর মধ্য দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব পদে দায়িত্ব পালন থেকে তার যাত্রা শুরু হলো মাঠ প্রশাসনের প্রথম সারিতে—এক দায়িত্ব, যা একইসঙ্গে চ্যালেঞ্জ ও প্রত্যাশার ভারে পূর্ণ।
এনামুল আহসান (১৬০৬৩)—অভিযোগ ব্যবস্থাপনা অধিশাখা ও সুশাসন অধিশাখার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) কর্মকর্তা ছিলেন। প্রতিদিন তার টেবিলের ফাইলে জমা হতো অগণিত মানুষের দাবি, অভিযোগ আর আস্থা। সেসব কাগজের স্তূপ থেকে, এখন রংপুরের পরিচিত রাস্তা, বাজার, স্কয়ার আর জনজীবনের বাস্তবতায় জড়িত হওয়া হল তার কাজ।
রংপুরের বর্তমান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সালকে বদলি করে পাঠানো হয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপসচিব হিসেবে। গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর রংপুরে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন তিনি। দায়িত্ব পালন শেষে এই শহরের প্রশাসনিক স্মৃতিপটে তারও একটি অধ্যায় রয়ে গেল।
রংপুরের পুরোনো কালেক্টরেট ভবনের জানালাগুলোতে সকালে যে আলো ঢোকে—এখন সেই আলো দেখবে এক নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তকে। প্রশাসনের বদল হয়, কিন্তু বদলায় না মানুষের প্রত্যাশা—আইনশৃঙ্খলা আরও সুসংহত হবে কি না, সেবার গতিশীলতা কি বাড়বে, উন্নয়ন প্রকল্পের গতি কি নতুন করে ছন্দ পাবে…
এখানেই অদৃশ্য প্রশ্ন—রংপুরের প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে এই পরিবর্তন কি শুধুই কাগজে-কলমে বদলি, নাকি ঘটবে আরেকটি নীরব রূপান্তর?
রাতের প্রজ্ঞাপন ভোরে এসে দাঁড়ায় দায়িত্বের দোরগোড়ায়। আর সেই দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ এনামুল আহসান এখন রংপুরের নতুন অধ্যায়ের নাম।