২২ বিচারপতিকে স্থায়ী নিয়োগ
বিশেষ প্রতিনিধি (ঢাকা): রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন হাইকোর্ট বিভাগের ২২ জন অতিরিক্ত বিচারপতিকে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দিয়েছেন। এ বিষয়ে রোববার আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৯৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি তাঁদের স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেন। নিয়োগ কার্যকর হবে শপথ গ্রহণের দিন থেকে।
এর আগে গত বছরের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি ২৩ জনকে অনধিক দুই বছরের জন্য অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে এবার ২২ জন স্থায়ী হলেন। মাত্র একজন বাদ পড়েছেন—কারণ সম্পর্কে সরকারি কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আইন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, "এটি ছিল সময়ের ব্যাপার। বিচারিক কাজে যোগ্যতা ও শৃঙ্খলার ভিত্তিতেই তাঁদের স্থায়ী করা হয়েছে।"
স্থায়ী হওয়া বিচারপতিরা হলেন—মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার, সৈয়দ এনায়েত হোসেন, মো. মনসুর আলম, সৈয়দ জাহেদ মনসুর, কে. এম. রাশেদুজ্জামান রাজা, মো. যাবিদ হোসেন, মুবিনা আসাফ, কাজী ওয়ালিউল ইসলাম, আইনুন নাহার সিদ্দিকা, মো. আবদুল মান্নান, তামান্না রহমান, মো. শফিউল আলম মাহমুদ, মো. হামিদুর রহমান, নাসরিন আক্তার, সাথিকা হোসেন, সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেন, মো. তৌফিক ইনাম, ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমন, শেখ তাহসিন আলী, ফয়েজ আহমেদ, মো. সগীর হোসেন ও শিকদার মাহমুদুর রাজী।
বিচার অঙ্গনে এ নিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে একজন সিনিয়র আইনজীবী বলেন, 'বিচারকদের স্থায়িত্ব কেবল পদায়ন নয়, এটি বিচারব্যবস্থার ওপর আস্থার প্রকাশ। এখন তাঁদের ন্যায়বিচারের দায় আরও বেড়ে গেল।'
তবে প্রশ্ন রয়ে গেছে—২৩ জনের তালিকা থেকে একজন কেন বাদ গেলেন? সুপ্রিম কোর্টের করিডোরে সে প্রশ্ন ঘুরছে নীরবে। কেউ বলছেন প্রশাসনিক মূল্যায়ন, কেউ বা অভ্যন্তরীণ মতভেদ। সরকারিভাবে এখনো কেউ কিছু বলেননি।
বিচার বিভাগে বর্তমানে বিচারকের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে শতাধিক। আদালতপাড়ার অনেকে মনে করছেন, এতে দীর্ঘদিনের বিচারজট কিছুটা হলেও কমবে। তবে সংখ্যার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে তাঁদের বিচারের গতি ও মান।
রোববার বিকেলে আইন মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানো প্রজ্ঞাপনে রাষ্ট্রপতির কলমে কালি শুকায়নি—তবু তাতে এক নতুন বার্তা লেখা হলো: ন্যায়বিচারের ভার এখন ২২ জন নতুন স্থায়ী বিচারপতির কাঁধে।